Dawan Rony
৩০ মে ২০২৬, ৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, মুখ খুললেন ইসরায়েলি সেনারা

Spread the love

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানো ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা। তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পরও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সন্দেহভাজন যে কাউকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে।

বার্তা সংস্থা এপি (AP)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা জানান, তিনি গাজায় দায়িত্ব পালনকালে এমন অনেক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের বহনকারী যানবাহনে হামলা চালানো হয়েছে। একটি ঘটনায় হামলার পর তার সহযোদ্ধাদের উল্লাস করতেও দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

বিশের কোঠায় থাকা ওই সেনার ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে নির্দেশ ছিল—নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করলে বা তার কাছাকাছি গেলেই গুলি চালাতে হবে। তার মতে, ওই সময় গাজার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অস্থির ও বিশৃঙ্খল।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে গাজায় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকা ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মধ্যকার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ঘিরে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে, সে বিষয়ে অনেক সময় স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না বলে তারা জানিয়েছেন।

সেনাদের দাবি, কিছু কমান্ডার প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন দেখালেও ব্যক্তিগতভাবে গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করতেন। ফলে মাঠপর্যায়ের সেনাদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হতো।

এক সেনা জানান, অনেক সময় দূর থেকে বা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে গুলি চালানোর কারণে লক্ষ্যবস্তু আসলে কে ছিল, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ থাকত না। ইসরায়েলি সাবেক সেনাদের নিয়ে গঠিত একটি হুইসেলব্লোয়ার সংগঠনও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গত অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে গাজার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করা তিনজন রিজার্ভ সেনা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন। তারা জানান, যা দেখেছেন তা তাদের ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করেছে বলেই তারা মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে, এপি তাদের অনুসন্ধানে গাজার ইয়েলো লাইনের কাছাকাছি এলাকায় শিশু ও সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর একাধিক ঘটনার তথ্যও নথিভুক্ত করেছে।

প্রতিবেদনটি গাজায় যুদ্ধবিরতির পর বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত বিভিন্ন দেশের নাগরিক

১

পুতিনের আশ্বাস, ইরান যুদ্ধ বন্ধে সব ধরনের সহায়তা দেবে রাশিয়া

২

ইস্তাম্বুলে ভবন ধসে নিহত ২, উদ্ধার ৮

৩

মিয়ানমারকে ASEAN-এ ফেরাতে কাজ করবে মালয়েশিয়া

৪

নানা পাটেকর আর নেই, ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা

৫

লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে জাতিসংঘের পোস্টে গুলি

৬

তেল সংকটে রাশিয়া, মধ্য এশিয়ায় ইরানের নতুন সুযোগ?

৭

জামায়াত আমির তুরস্কে, পরে ওমরাহ করে ফিরবেন

৮

ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৯৯৬

৯

বাব আল-মান্দাবে তীব্র লড়াই, সরকারি বাহিনীর দখলে একাধিক অবস্থান

১০

৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ ঘোষণা, বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ

১১

ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিল

১২

শেখ হাসিনাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী

১৩

রিয়াদে আরামকো স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের, পাল্টা ৯৭ অভিযান

১৪

দুই পাকিস্তানি নিহত, ভারতীয় কূটনীতিককে তলব পাকিস্তানের

১৫

পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর হামলা, সাংবাদিকদের আটক

১৬

আমদানি ৮৭ টাকা, বাজারে মাল্টা ৫২০—দামের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন

১৭

স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নিয়োগ, ৮০ শতাংশ নারী

১৮

বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামান, চলছে আইনি প্রক্রিয়া

১৯

তাইওয়ানে পৌঁছাল দুই নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান

২০