
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ফের চরমে: IAEA তদারকি বন্ধ, যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বাড়ছে উত্তেজনা। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা (IAEA) ইরান থেকে তাদের তত্ত্বাবধায়ক দল প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরান ২ জুলাই IAEA-র সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এর পরদিনই সংস্থাটির প্রতিনিধিরা তেহরান ত্যাগ করে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সিস্টেম এবং ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন জোরদার করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরান ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে যার আঘাতে সাতটি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। G7 দেশগুলো ইরানকে পারমাণবিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে ইরানের তেল খাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক সমাধান চাচ্ছে।
ইরানের সংসদে নতুন একটি কঠোর আইন প্রণয়নের প্রস্তাব পেশ হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কাউকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তবে সেটি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব
ফেলতে পারে।