
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন। এ সময়সীমার মধ্যে প্রণালীটি উন্মুক্ত না হলে, ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো “নির্ধারিত লক্ষ্য” হিসেবে ধ্বংস করা হবে।
পাল্টা জবাবে ইরান বলেছে, যদি মার্কিন হুমকি কার্যকর হয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক এবং মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাবে। এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির ফলে বিশ্ব জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের চরমপত্র প্রকাশের পরেই, রোববার তেহরান জানিয়েছে, তারা মার্কিন মেরিন সেনাদের প্রতিটি চলাফেরার দিকে নজর রাখছে এবং আক্রমণের প্রয়োজনে জবাব দিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘ব্ল্যাক সুইট’ বা সময় বোমার মতো আখ্যায়িত করছেন। আইজি-এর বিশেষজ্ঞ টনি সাইকামোর সতর্ক করেছেন, যদি ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন শেষ না হয়, তাহলে সোমবার বিশ্ব শেয়ার বাজারে বড় ধস নামতে পারে। ইতিমধ্যে গত সপ্তাহে তেলের দাম লাফিয়ে চারের বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে প্রণালীটি বন্ধ থাকায় ইউরোপে গ্যাসের দাম একলাফে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যে তেহরান শনিবার চার হাজার কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে তাদের সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক সূত্রের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের বড় বড় রাজধানী যেমন বার্লিন, প্যারিস এবং রোম পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষম।
অপরদিকে, দক্ষিণ ইসরাইলে ইরানি হামলার জবাবে ইসরাইলি বাহিনী তেহরানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে খবর এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, ট্রাম্পের নতুন আলটিমেটাম কি মধ্যপ্রাচ্যকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না।