দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, আইন ও বিধি থাকলেও তা সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠদের ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা ও আইনের ব্যত্যয় ঘটছে।
সোমবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন ও সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগে চরম বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করেও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন, অথচ সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে একই অপরাধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যক্তি সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নীরব ভূমিকা পালন করছে।
ঋণখেলাপি ইস্যুতে দলটির অভিযোগ আরও গুরুতর। জামায়াতের মতে, ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সংকটের মূল কারণ হলো রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ঋণখেলাপিরা। তারা বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং পুনঃতফসিল, বিশেষ সুবিধা ও ছাড় দিয়ে বড় খেলাপিদের রক্ষা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণ খেলাপি হলেই মামলা, হয়রানি ও ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ বড় শিল্পগোষ্ঠী ও প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে বারবার সময় বাড়ানো হচ্ছে, যা আর্থিক খাতে চরম বৈষম্য তৈরি করেছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই পক্ষপাতিত্ব শুধু অর্থনীতিতেই নয়, দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দলটির দাবি, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তারা সতর্ক করে বলেন, এসব অনিয়ম অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়বে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা আরও কমে যাবে। একই সঙ্গে দলটি সরকারের কাছে আহ্বান জানায়, সব নাগরিকের জন্য আইন সমানভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের এ অভিযোগ নতুন করে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি ইস্যুকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।