📰 বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,
“ভারত তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে।”
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়েও আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একটি উদ্বেগজনক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী,
“এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দ্রুত ও কঠোরভাবে মোকাবিলা না করলে উগ্রপন্থী ও অপরাধীরা আরও উৎসাহী হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনাকে প্রায়ই ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্যান্য বাহ্যিক কারণের সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।
এদিকে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত এবং ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল জানান,
“বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান এয়ার সার্ভিসেস চুক্তির আওতাতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। জয়সওয়ালের মতে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপস্থিতিতে নির্বাচনগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি। ভারত এখনো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় বলেও জানান তিনি।