
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোর ৬টার মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় ও তীব্র বজ্রপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের আকাশে জমছে ঘন কালো মেঘ, দমকা হাওয়া ও বজ্রগর্জনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা একটি অস্থিতিশীল আবহাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আবহাওয়া বিশ্লেষণে জানা গেছে, রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত সময়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের প্রবণতা বেশি থাকবে। এ সময় হঠাৎ করেই দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায়ও ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে। তবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকলেও বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঝড়ের সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সঙ্গে ঘন ঘন বজ্রপাত জনজীবনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশে একটি লঘুচাপের প্রভাব এবং বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা আর্দ্র বাতাসের কারণে দেশের আকাশে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলেই কালবৈশাখী ঝড়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নৌযান চলাচল ও কৃষিকাজেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
হঠাৎ করেই ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাই রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সময়টিতে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।