মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখাই তাদের নীতিগত অবস্থান। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করা ভারতের উদ্দেশ্য নয়। বরং সংলাপ ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করে নয়াদিল্লি।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। ওই অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও মিয়ানমারের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, মিন অং হ্লাইংকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানানো সামরিক সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বার্তা দিতে পারে। তবে ভারত এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে আলোচনার পথই বেশি কার্যকর।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। তাই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ভারত মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম ভারত সফর। এর আগে ২০১৯ সালে তিনি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান হিসেবে ভারত সফর করেছিলেন।
পাঁচ দিনের সফরে শনিবার ভারতে পৌঁছান মিন অং হ্লাইং। সফরের শুরুতে তিনি বিহারের বোধগয়া পরিদর্শন করেন, যেখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভ করেছিলেন।
ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের সামুদ্রিক সীমান্তও রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মিয়ানমার ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত।