পশ্চিমবঙ্গ সফরে মোদী, বক্তব্যে বাংলাদেশ সীমান্ত প্রসঙ্গ
নয়াদিল্লি/কলকাতা | UD 24 News
ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, দেশভাগের ইতিহাস এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই বক্তব্য দুই বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে ২০ জুন তারকেশ্বরে আয়োজিত জনসভায় মোদী দাবি করেন, দেশভাগের সময় পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে তৎকালীন কিছু নেতার উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়। তিনি বিশেষভাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে মোদী সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আনেন। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় সীমান্ত বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য?
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪,০৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মানবপাচার এবং নিরাপত্তা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ভারত ইতোমধ্যে সীমান্তের অধিকাংশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে এবং অবশিষ্ট অংশেও কাজ চলমান রয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে তথাকথিত ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক লোক পাঠানোর অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে ভারত অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। ফলে মোদীর সীমান্তসংক্রান্ত বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বার্তার অংশ হিসেবে দেখছেন।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
২০ জুন তারিখটি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৪৭ সালের এই দিনে বঙ্গভাগ প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে গঠনের পথ সুগম হয়। বিজেপি নেতৃত্ব এই দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে উদযাপন করছে। মোদীর তারকেশ্বর সফরও সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই আয়োজন করা হয়।
এ সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১,৪৯২ কোটি রুপির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ঘোষণা করেন। কৃষি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও রেল খাতের একাধিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মোদীর বক্তব্যকে বিজেপি সমর্থকরা সীমান্ত নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে দেশভাগ ও বাংলাদেশ সীমান্ত প্রসঙ্গ সামনে এনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই বক্তব্য।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সীমান্ত, নিরাপত্তা এবং অভিবাসন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল। ফলে মোদীর এই মন্তব্য আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায়ও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।