যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ১১
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ফের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার পরও একদিনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শনিবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ জেলায় একাধিক স্থানে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আনসার গ্রামের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে চালানো হামলায় ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়ে। এতে একই পরিবারের সদস্যসহ সাতজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হন।
এর কিছু সময় পর দেইর আল-জাহরানি এলাকায় আরেকটি হামলায় আরও চারজন নিহত হন। একদিনে এসব হামলায় মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নাবাতিয়েহর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবাইল ও তাইবেহ এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আল-মানসুরি শহরের উপকণ্ঠে ড্রোন হামলা চালানোর খবরও পাওয়া গেছে। এছাড়া সারবিন, বারাশিত, আল-মানসুরি ও ওয়াদি জিবকিন এলাকায় গোলাবর্ষণের তথ্য জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা।
ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ জেলার আলি আল-তাহের পাহাড়ি এলাকায়ও বিমান হামলা চালিয়েছে। এলাকাটি ঐতিহাসিক বউফোর্ট দুর্গের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, দক্ষিণ লেবাননের এসব এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো রয়েছে এবং কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় সেগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির পরও কেন হামলা?
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জুন মাসে যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুটি সমঝোতা হয়েছিল। ৪ জুনের চুক্তিতে হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং তাদের যোদ্ধাদের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এরপর ২৬ জুনের কাঠামোগত সমঝোতায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়। তবে যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
গত কয়েক সপ্তাহে কিছুটা স্থবিরতার পর সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা আবারও বেড়েছে। এর মধ্যেই একদিনে ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
লেবাননের রাজনৈতিক নেতারা এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে হামলা ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে চলেছে।
সামনে নতুন আলোচনা
এরই মধ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আগামী মাসে নতুন দফায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ—এসব বিষয় আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ায় আসন্ন আলোচনার পরিবেশ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, হামলার মাত্রা আরও বাড়লে যুদ্ধবিরতির যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, সেটিও আবার ভেঙে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ—এই তিনটি ইস্যুর সমাধান না হলে দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।