যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তিতে ৬ হাজার জোড়া বিশেষ বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস কিনছে। আটক ব্যক্তি বা বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধের মুখে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় এসব গ্লাভস ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
ফেডারেল ক্রয়-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, কেন্টাকিভিত্তিক Compliant Technologies LLC-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া ছয় মাসের জন্য এই চুক্তি করেছে ICE। চুক্তির আওতায় গ্লাভসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ICE জানিয়েছে, ‘ডি-এসক্যালেশন’ বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবে এসব বৈদ্যুতিক গ্লাভস ব্যবহার করা হবে। গ্রেপ্তারের সময়, আক্রমণাত্মক বা প্রতিরোধকারী আটক ব্যক্তিকে স্থানান্তরের সময় এবং আটককেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বা বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এগুলো ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, কোনো ব্যক্তি সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ করলে এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়া প্রয়োজন হলে গ্লাভসের বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করা হতে পারে। ICE-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আঘাতের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, এসব গ্লাভস ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ন্ত্রণ, পালানোর চেষ্টা ঠেকানো, হাত লুকিয়ে রাখা ব্যক্তিকে হাতকড়া পরানোর জন্য নিয়ন্ত্রণে আনা এবং জনতা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা নেওয়া হতে পারে।
ICE দাবি করছে, এই প্রযুক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের মতো আরও মারাত্মক শক্তি প্রয়োগের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, অনুমোদিত নীতি, প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির কাঠামোর আওতায় গ্লাভসগুলো ব্যবহার করা হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মতো প্রযুক্তি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন তদারকি ছাড়া ব্যবহার করা হলে এর অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একদল ডেমোক্র্যাট সিনেটর ICE-কে এই গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, কখন ও কোন পরিস্থিতিতে গ্লাভস ব্যবহার করা যাবে এবং প্রতিটি ব্যবহারের ঘটনা কীভাবে নথিভুক্ত ও পর্যালোচনা করা হবে—এসব বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ICE-এর বিরুদ্ধে আগে থেকেই বলপ্রয়োগ ও জবাবদিহি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাই নতুন এই প্রযুক্তি সংস্থাটির হাতে দেওয়ার আগে কঠোর নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে ICE-এর মূল সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এই গ্লাভসের প্রযুক্তির নাম G.L.O.V.E.—এর পূর্ণরূপ ‘Generated Low Output Voltage Emitter’। এটি সাধারণ টহল গ্লাভসের মতো ব্যবহার করা গেলেও সক্রিয় অবস্থায় ত্বকের সংস্পর্শে এলে ব্যথাদায়ক বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে।
অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যে ICE-এর নতুন এই ক্রয় সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সমর্থকদের মতে, এটি কর্মকর্তাদের জন্য কম প্রাণঘাতী একটি নিয়ন্ত্রণের বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—নতুন এই প্রযুক্তি সত্যিই কি বলপ্রয়োগ কমাবে, নাকি তদারকির ঘাটতি থাকলে আরও বেশি অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে?
এখন ৬ হাজার বৈদ্যুতিক শক গ্লাভস ব্যবহারের আগে ICE কী ধরনের প্রশিক্ষণ, নীতিমালা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা কার্যকর করে, সেদিকেই নজর থাকবে।