ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে সংযমের আহ্বান, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান
UD 24 News 🗞️
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সদস্য দেশগুলোর নেতারা। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া দুই দিনের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা একটি যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করেন। এতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা এবং জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত আচরণ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস। গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি, যুদ্ধবিরতি এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরোধিতার কথাও ঘোষণায় তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রিকস নেতারা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু ওই অঞ্চলের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করছে না; এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। তাই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।
সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একতরফা শুল্ক ও বাণিজ্যিক বাধা নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়। ব্রিকস সদস্যরা এমন নীতির বিরোধিতা করেছেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এবারের সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা অংশ নিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে জাতিসংঘের সনদ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। নেতারা সংঘাত প্রতিরোধে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
এদিকে এবারের সম্মেলন ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত অবস্থান থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা সচল রাখার মতো বিষয়ে একটি যৌথ অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে জোটটি।
সম্মেলনের ঘোষণায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস।
সার্বিকভাবে, এবারের ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রশমনে কূটনীতি ও সংযম, ফিলিস্তিনিদের অধিকার, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।