
সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা যাচাই এবং সামরিক প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সমুদ্র থেকে দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। বুধবার পূর্ব উপকূলের সমুদ্র এলাকায় এসব পরীক্ষা করা হয় বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৌশলগত সামরিক প্রতিরোধব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনায় নৌবাহিনীর দক্ষতা বাড়ানো। পরীক্ষার সময় দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি ছিল ‘পুলহওয়াসাল-৩-৩১’। গত সপ্তাহে স্থলভাগ থেকেও একই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানিয়েছিল পিয়ংইয়ং।
কেসিএনএ দাবি করেছে, এই পরীক্ষার কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
সাবমেরিন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন পুরোপুরি কার্যকরভাবে মোতায়েন করতে পেরেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে এ ধরনের সাবমেরিন তৈরি উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
গত বছর দেশটির নেতা কিম জং উন সাবমেরিন নির্মাণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সে সময় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে নির্মাণাধীন ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন দেখা যায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে পারমাণবিক সাবমেরিন-সংক্রান্ত চুক্তির সমালোচনা করেন কিম। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
বাড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও দেশটি পূর্ব উপকূলের সমুদ্র লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
সিউল ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিক এসব পরীক্ষা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
মন্তব্য করুন