সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিসরের, প্রতিরক্ষা সহায়তার প্রস্তুতি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিসর। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার কথাও জানিয়েছে দেশটি।
রোববার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের ভূখণ্ড, জাতীয় সম্পদ এবং পবিত্র ইসলামি স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় রিয়াদের পাশে থাকবে কায়রো।
এর আগে শনিবার এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট সিসি জানান, সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে মিসর। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা সহায়তার অনুরোধ এলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিতে তিনি পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেন। রোববার ওই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
সম্প্রতি সৌদি আরবে হামলার ঘটনা বাড়িয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোষ্ঠীটি রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এর আগে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে।
গত মাসে মিসর সফর করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ওই সময় লোহিত সাগরে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে সৌদি আরবের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন সিসি। মিসরের প্রেসিডেন্সির বিবৃতিতে তখন বলা হয়, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা মিসরের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের জন্য নিরাপত্তা সহায়তা এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সমুদ্রপথের ওপর মিসরের সুয়েজ খালের আয়ও নির্ভরশীল। ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে দুই দেশই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সৌদি আরবের অভিযোগ, ইরান হুথিদের হামলায় উৎসাহ দিচ্ছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে মিসর।