
শিরোনাম: গাজায় বেসামরিক ভবনে ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদনের অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর: গাজা উপত্যকায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনি civiliansদের কোনো পূর্বাভাস বা সতর্কতা ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ভারী বোমা বর্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিটের চার সদস্যের বরাত দিয়ে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর এ খবর জানিয়েছে।
সামরিক গোয়েন্দা সদস্যদের জবানবন্দি অনুযায়ী, গাজায় চলমান সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি এবং পার্শ্ববর্তী ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার নীতিতে ব্যাপক শিথিলতা আনা হয়েছিল। হামাসের একটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ইব্রাহিম বায়ারিকে লক্ষ্যবস্তু করে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। তাদের এলাকা ছাড়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরেকটি জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হামাস কমান্ডার আলী কাদীকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একটি পরিবারের সব সদস্য নিহত হলেও ওই কমান্ডার অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। ড্রোন ইউনিটের সেনা সদস্য ও গোয়েন্দা কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রায় ২০ জন বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদন ছিল। ২৪ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডে সেনা নিরাপত্তার অজুহাতে বেসামরিক প্রাণহানিকে নিয়মিত উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক নাদাব ওয়েইম্যান সামরিক বাহিনীর এই আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বা ট্রাক চালককে হত্যার জন্য শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্য করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এই অপরাধের দায় ঊর্ধ্বতনদের নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় ৭৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার শুনানি চলছে।