UD 24 News 🗞️
ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, ভারতে তরুণদের আন্দোলন ঘিরে নতুন উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক এবার নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে নামা তরুণ আন্দোলনকর্মী, শিক্ষার্থী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের আটক করার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা। রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানী নয়াদিল্লিতে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং তাঁর দুই সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই আটক হন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর দিপকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে তাঁকে দেশের জন্য বিব্রতকর ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
কেন এই আন্দোলন?
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি—বিজেপির রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।
বিতর্কিত এই প্রক্রিয়ায় মুসলিমসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে যোগ্য ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির বিষয়ও উঠে আসে। এর পরই বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ জোরালো হয়। তবে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা
শনিবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের জমায়েতের নির্ধারিত স্থান যন্তর মন্তরের আশপাশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়। যানবাহনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ ঘিরে পরিবহনব্যবস্থাও ব্যাহত হয়।
পুলিশের অভিযানে দুই হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আন্দোলনকর্মী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছিলেন। মুম্বাইয়েও বিক্ষোভের ঘটনায় কয়েক শ মানুষকে আটক করার খবর পাওয়া যায়।
কিছু বিক্ষোভকারী রাজধানীর অন্য স্থানেও জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেসব জমায়েত ছত্রভঙ্গ করা হয়। বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও আটক হন। পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলেও একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের কিছু সরঞ্জাম জব্দ করার কথা বলা হয়েছে।
মুক্তি পেলেন আন্দোলনের নেতারা
রোববার আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আটক সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সিজেপির তিন নেতাও মুক্তি পান। তবে তাঁদের এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
মুক্তির পর সৌরভ দাস পুলিশের আটক অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন তাঁরা অপরাধী। অন্যদিকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আটকের ঘটনাকে অপহরণ বলে বর্ণনা করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, আটক ও নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে তাঁদের প্রতিবাদ থামানো যাবে না। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তাঁদের আপত্তি এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবি অব্যাহত থাকবে।
সামনে কী হতে পারে?
নেতাদের মুক্তি এবং বিক্ষোভকারীদের নতুন করে আন্দোলনে নামার ঘোষণার পর নয়াদিল্লির পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং প্রতিবাদ দমনে প্রশাসনের পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে বিষয়টি ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি থেকে সরে না আসার কথা জানালেও পরবর্তী কর্মসূচির পরিস্থিতি নির্ভর করবে প্রশাসনের অবস্থান এবং বিক্ষোভকারীদের জমায়েতের ওপর। আপাতত ভোটারদের অধিকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্কই এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
UD 24 News 🗞️
সত্যের সাথে দেশের পাশে