জাতিসংঘে ইরানের কড়া বার্তা, তবু আলোচনার সুযোগ রাখলেন পেজেশকিয়ান
UD 24 News 🗞️
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি ও ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসানে আলোচনা ও কূটনীতির পথ খোলা রাখার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করলেও ইরান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ ও হুমকির বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থানও উঠে আসে।
ভাষণের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ছবি প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি মিনাব শহরের একটি স্কুলে নিহত ছাত্রীদের ছবিও তুলে ধরেন তিনি। এসব উদাহরণ তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বোঝাতে চান, সামরিক আঘাতের পরও ইরান চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধকে কেবল সংঘাতের মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেননি পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে সংলাপ প্রয়োজন।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের একজন কর্মকর্তা বেরিয়ে যান। ইসরায়েলি প্রতিনিধিরাও তাঁর ভাষণ বর্জন করেন।
এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। ট্রাম্প জানান, তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। বৈঠককে তিনি ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন এবং সমঝোতার দিকে অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা জানান।
জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে তাই একই সঙ্গে দুটি বার্তা সামনে এসেছে—যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকির বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর অবস্থান এবং সংকট সমাধানে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ।