সম্প্রীতি রক্ষায় তরুণদের ভূমিকা চান রাষ্ট্রপতি
বঙ্গভবনে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ে বক্তব্য দিলেন রাষ্ট্রপ্রধান
গুজব ও উগ্রতার ফাঁদে পড়ে সমাজে ফাটল ধরানোর চেষ্টা যেন সফল না হয়, সেজন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মনে করেন, এ ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তরুণ সমাজ — যাদের সত্য ও ন্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলা উচিত।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করে বলেন, "দেশটা আমাদের সবার। এটাকে গড়ে তোলার দায়িত্বও সবার। সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করে জাতীয় ঐক্য ভাঙার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।"
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও ইনসাফের ভিত্তিতে এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য — থাকবে শুধু নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানুষের কল্যাণ।
বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবনে অতিথিদের পেয়ে তিনি খুশি। পৃথিবীর অনেক জায়গায় যেখানে যুদ্ধ আর সহিংসতা চলছে, সেখানে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে উৎসব পালন করছে — এই সম্প্রীতিই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে তিনি মনে করেন। এটি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, এই ভূখণ্ডের মানুষ কখনোই সাম্প্রদায়িক ছিল না। যুগ যুগ ধরে এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে পাশাপাশি বসবাস করছে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই এ ঐক্যের প্রমাণ।
দুর্গাপূজার মূল বার্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই উৎসব অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক — সত্য আর কল্যাণের পক্ষে এটাই বার্তা।
তিনি সতর্ক করেন, ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হলে তা বরদাশত করা হবে না। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি একটি জাতীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষায়, "ধর্ম সবার নিজের, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা আর ন্যায়বিচারও সবার অধিকার। আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। সংবিধান সবাইকে সমান মর্যাদা ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে — সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।"
ধর্মীয় উৎসবগুলো যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সাথে পালিত হয়, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে পৌঁছালে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি আগত অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এসময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।