UD 24 News 🗞️
তেল সংকটে রাশিয়া, মধ্য এশিয়ায় ইরানের নতুন সুযোগ?
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার শোধনাগারগুলো একের পর এক অচল হয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্য এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান তাজিকিস্তান ও কির্গিজস্তানে তেল সরবরাহ ও যৌথ শোধনাগার স্থাপনের চুক্তি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
রাশিয়ার জ্বালানি সংকট কতটা গভীর?
ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল পরিশোধনের সক্ষমতার ৫০ শতাংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কিয়েভের দাবি । জুন মাসে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোর উৎপাদন ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। ডিজেল উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ায় দেশটি জ্বালানি রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয় ।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে। তাজিকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে তার ৮০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য রাশিয়া থেকে আমদানি করে। কির্গিজস্তান ৯০ শতাংশেরও বেশি পেট্রোল রাশিয়া থেকে আনে । এসব দেশ এখন বিকল্প সরবরাহের খোঁজে।
ইরানের সাথে কী চুক্তি হয়েছে?
গত আগস্টে তাজিকিস্তান জানায়, তারা ইরান থেকে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পাচ্ছে। দুশানবে ইরান থেকে মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পাওয়ার আশা করছে ।
একই মাসে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কির্গিজস্তানে একটি যৌথ শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। চুক্তি অনুযায়ী, শোধনাগারের জন্য প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল ইরান সরবরাহ করবে এবং উৎপাদিত পণ্য দুই দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে ।
ইরানের জন্য এই সুযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চে যেখানে ইরান দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত, সেখানে আগস্টে তা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে । এই পরিস্থিতিতে নতুন বাজার খোঁজা ইরানের জন্য জরুরি।
তবে কি এই সুযোগ টিকবে?
মধ্যপ্রাচ্য কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের বিশ্লেষক ফ্রেডরিক শ্নাইডার আল জাজিরাকে বলেন, এই সুযোগ নির্ভর করছে ইউক্রেনের হামলা অব্যাহত থাকার উপর। কিন্তু ইউক্রেনের হামলার সক্ষমতা কমে আসা এবং বৈশ্বিক তেলবাজারে চাপ এড়াতে মার্কিন চাপের কারণে হামলা বন্ধ হতে পারে ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক কারণেও রাশিয়ার সাথে প্রতিযোগিতা করা ইরানের জন্য কঠিন। রাশিয়ার সাথে তাজিকিস্তান ও কির্গিজস্তানের সরাসরি সীমান্ত রয়েছে, যা পরিবহন খরচ কমায়। অন্যদিকে ইরানের তেলকে তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান হয়ে রেলপথে পরিবহন করতে হয় ।
সবচেয়ে বড় কথা, তাজিকিস্তানের মোট চাহিদা দৈনিক মাত্র ৫০ হাজার ব্যারেল। যা ইরানের সাবেক সমুদ্রপথে রপ্তানির (১৭ লাখ ব্যারেল) তুলনায় নগণ্য। চীনের বাজারই ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ।
ঝুঁকি কী?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে ব্যবসা করা যে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। ট্রেজারি বিভাগ ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে ইরানের তেল বাণিজ্যে জড়িতরা "নিজেরাই সেই ঝুঁকি বহন করবে" ।
তবে রাজনৈতিকভাবে মধ্য এশিয়ার সরকারগুলোর উপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা কম। এই অঞ্চল নিয়ে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন "গ্রেট গেম" চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের জন্য এই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। তাই সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলে তারা রাশিয়া ও চীনের দিকে আরও ঝুঁকে পড়তে পারে ।