UD 24 News 🗞️
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে আইওয়া ও কানসাসে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান শক্তিশালী করতে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে আইওয়া ও কানসাস অঙ্গরাজ্যে জনসভা করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। দুটি রাজ্যেই রিপাবলিকানদের আধিপত্য থাকলেও এবারের নির্বাচনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে।
রোববার প্রথমে আইওয়ার ডাবুক শহরে জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেখানে সিনেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন এবং গভর্নর পদ ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে রিপাবলিকানরা। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইওয়ায় বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে পারেন তিনি।
একই অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। আসনটি ধরে রাখতে রিপাবলিকান প্রার্থী জো মিচেলকে লড়তে হচ্ছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লিন্ডসে জেমসের বিপক্ষে।
আইওয়ার পর কানসাসের সালিনা শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের। ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কানসাসেও এবার সিনেট নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। সেখানে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও ধর্মযাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাবে বিরতি কাটানোর পর আবারও সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরছেন ট্রাম্প। এর আগে বৃহস্পতিবার আইওয়া ও কানসাসের জনসভা বাতিলের ঘোষণা এলেও পরে সেগুলো পুনর্নির্ধারণ করা হয়। প্রশাসনসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প নিজেই এসব জনসভায় উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে বিভিন্ন জরিপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে রিপাবলিকানদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমে ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ এবারের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আগে যারা ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন, তাদের একটি অংশের মনোভাব নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এবারের নির্বাচনে সিনেটের ৩৫টি আসনের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। প্রতিনিধি পরিষদেও অল্প ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে রিপাবলিকানরা।
নির্বাচনে কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনগত ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও বাড়বে।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগেই ৫ কোটি ২০ লাখের বেশি মার্কিন নাগরিক সরাসরি অথবা ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট দেওয়ার সংখ্যার তুলনায় এবার আগাম ভোটের পরিমাণ আরও বেশি।
সব মিলিয়ে আইওয়া ও কানসাসে ট্রাম্পের এই প্রচারণাকে রিপাবলিকানদের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।