
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর কুদস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল গানিকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, তাকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মসাদের সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়।
হামলার পরই শুরু হয় সন্দেহ
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনার পর থেকেই ইরানের সামরিক বাহিনীর ভেতরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
এই পরিস্থিতিতে কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল গানি একাধিক হামলার সময় অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ায় তাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
একাধিক হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে কয়েকটি বড় হামলার আগে বা ঠিক সময়ে গানি ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
সেপ্টেম্বর ২০২৪: বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি গোপন বৈঠক থেকে আগেই বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে বড় হামলা হয়।
জুন ২০২৫: তেহরানে IRGC সদর দপ্তর থেকে বের হওয়ার পর সেখানে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনায়ও তিনি অক্ষত থাকেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই ঘটনাগুলোর কারণেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মসাদের প্রতিক্রিয়া
এদিকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মসাদ এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইসমাইল গানি তাদের কোনো গুপ্তচর নন।
কে এই ইসমাইল গানি
ইসমাইল গানি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় তৎকালীন কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হলে তার স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
কুদস ফোর্স ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট, যা মূলত বিদেশে সামরিক ও কৌশলগত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
এখনো নিশ্চিত নয়বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে যে খবরগুলো ছড়িয়ে পড়ছে তার বেশিরভাগই অনানুষ্ঠানিক সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।