
ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত
ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রধান দুই আরব-অধ্যুষিত রাজনৈতিক জোটকে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। একই সঙ্গে দুই রাজনীতিকের প্রার্থিতাও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়; বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ানোর কথা রয়েছে।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্তে ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রাম (Ra’am) এবং জয়েন্ট লিস্ট (Joint List) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েছে।
রাম দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মানসুর আব্বাস। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টে রয়েছে হাদাশ, বালাদ ও তাআল—তিনটি রাজনৈতিক দল। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে এই দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি রাম ও জয়েন্ট লিস্টকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ১৮-৫ ভোটে নেয়। রামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, দলটি ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে আইনগত শর্ত পূরণ করে না এবং সশস্ত্র সংগ্রামসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছিল, দলটিকে নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জয়েন্ট লিস্টের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আইনি অভিযোগ তোলা হয়। তবে সরকারি আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলটির বিরুদ্ধে উপস্থাপিত তথ্য নিষিদ্ধ করার কঠোর আইনি মানদণ্ড পূরণ করে না এবং এর কিছু ভিত্তি পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে জয়েন্ট লিস্টের প্রার্থী ও হাদাশের আইনপ্রণেতা ওফের ক্যাসিফ এবং বালাদ নেতা সামি আবু শেহাদেহ-কেও নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আবু শেহাদেহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভোট ছিল ৩১-৪। ব্যক্তিগত প্রার্থীর ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন।
ইসরায়েলের নির্বাচনী আইনে কোনো দল বা প্রার্থীকে নির্বাচনের বাইরে রাখার নির্দিষ্ট কিছু আইনি ভিত্তি রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রের ইহুদি ও গণতান্ত্রিক চরিত্র অস্বীকার করা, বর্ণবাদে উসকানি দেওয়া এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো শত্রু রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসী সংগঠনের সশস্ত্র কর্মকাণ্ডকে সমর্থনের মতো বিষয় রয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত নয়। রাম ও জয়েন্ট লিস্টের পক্ষ থেকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট আগামী সপ্তাহে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে। অতীতেও আরব দল ও প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আদালত বাতিল করেছে। ২০২২ সালে বালাদকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তও সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছিল।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে দুই প্রধান আরব রাজনৈতিক তালিকা ভোটের মাঠে থাকতে পারবে কি না, সেটিই এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
মন্তব্য করুন