
UD 24 News ডেস্ক:
মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্কুলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন শিশু এবং ৯ জন নারী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলটি বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (IDF) দাবি, তারা স্কুলের ভেতরে অবস্থানরত হামাস ও ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, স্কুলের তিনটি শ্রেণীকক্ষে প্রায় ২০-৩০ জন যোদ্ধা একটি কমান্ড পোস্ট পরিচালনা করছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেন, “আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছি যে, নির্দিষ্ট শ্রেণীকক্ষে কোনো নারী ও শিশু নেই, তারপরই হামলা চালানো হয়েছে।”
তবে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হামলাকে ‘বিপর্যয়কর’ এবং ‘অবিচারসুলভ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স বলেন, “এমন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যেখানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে, সেখানে ভারী বোমা হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে।”
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ত্রাণ সংস্থা UNRWA-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানান, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ওই স্কুলে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এটিকে “গাজার আরেকটি ভয়াবহ দিন” হিসেবে বর্ণনা করেন।
হামলার পর প্রকাশিত দৃশ্যে দেখা যায়, স্কুলের ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ, রক্ত এবং কান্নার আওয়াজ। বহু শিশু ও নারী গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রায় ৬,০০০ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ওই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না। ইতিমধ্যে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বহু দেশ ও সংগঠন।
গাজায় চলমান সংঘাত দিনে দিনে আরও মারাত্মক রূপ নিচ্ছে, আর এর সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন নিরপরাধ সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।