
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক আক্রমণ চালিয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের একটি প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। তবে দেশটির দমকল বাহিনী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে হামলার আশঙ্কায় ওই স্থাপনায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।
একই দিনে কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার মিনা আল-আহমাদিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন সক্ষম এই শোধনাগারটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রগুলোর একটি।
সৌদি আরবও হামলার শিকার হয়েছে। দেশটির ইয়ানবু বন্দরে অবস্থিত SAMREF তেল শোধনাগারে ড্রোন আঘাত হানে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে।
এই হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরবের শীর্ষ কূটনীতিক বলেছেন, “এই হামলার মাধ্যমে আগের সামান্য যে আস্থা ছিল, তাও সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।”
বিশ্ববাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের উপরে উঠে গেছে, যা গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি।
এর আগে ইসরায়েল ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায়, যা বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র এবং ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই হামলা দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহেও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।