ud24news
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিতে ৭ বছর, স্থানীয় শিল্পায়নে সরকারের পরিকল্পনা

Spread the love

ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিতে ৭ বছর, স্থানীয় শিল্পায়নে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

 

ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস দ্রুত কাজে লাগাতে জেলাটিতেই শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কারণ ভোলা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস মূল ভূখণ্ডে বা জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে গেলে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

 

সুলতানা আহমেদ জানতে চান, শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে ভোলার গ্যাস দ্রুত মূল ভূখণ্ডের পাইপলাইন ব্যবস্থায় যুক্ত করা কিংবা ভাসমান প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কোনো ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ উদ্যোগ সরকার নিয়েছে কি না।

 

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার অবকাঠামো তৈরি করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী এ কাজে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে। তাই ওই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ভোলাতেই গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

সরকারের পরিকল্পনার অন্যতম দিক হলো ভোলায় গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা গড়ে তোলা। এর ফলে স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহার করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং ভোলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোলায় একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস ব্যবহার করে আরও একটি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

এ ছাড়া ভোলার গ্যাসসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পায়ন বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেলায় একটি ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

 

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ভোলার গ্যাসকে শুধু জাতীয় গ্রিডে নেওয়ার অপেক্ষায় না রেখে স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা। শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহার করা গেলে একদিকে ভোলায় নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।

 

এদিকে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং আগামী কয়েক বছরে নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

সব মিলিয়ে, ভোলার গ্যাস দ্রুত ব্যবহারযোগ্য করার ক্ষেত্রে সরকারের কৌশল এখন দুই দিককে ঘিরে—দীর্ঘমেয়াদে পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে গ্যাস সরবরাহ এবং তার আগ পর্যন্ত ভোলাতেই গ্যাসভিত্তিক শিল্প, সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে বিক্ষোভ, আটক নেতাদের মুক্তি

১

ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

২

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত বিভিন্ন দেশের নাগরিক

৩

পুতিনের আশ্বাস, ইরান যুদ্ধ বন্ধে সব ধরনের সহায়তা দেবে রাশিয়া

৪

ইস্তাম্বুলে ভবন ধসে নিহত ২, উদ্ধার ৮

৫

মিয়ানমারকে ASEAN-এ ফেরাতে কাজ করবে মালয়েশিয়া

৬

নানা পাটেকর আর নেই, ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা

৭

লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে জাতিসংঘের পোস্টে গুলি

৮

তেল সংকটে রাশিয়া, মধ্য এশিয়ায় ইরানের নতুন সুযোগ?

৯

জামায়াত আমির তুরস্কে, পরে ওমরাহ করে ফিরবেন

১০

ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৯৯৬

১১

বাব আল-মান্দাবে তীব্র লড়াই, সরকারি বাহিনীর দখলে একাধিক অবস্থান

১২

৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ ঘোষণা, বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ

১৩

ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিল

১৪

শেখ হাসিনাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী

১৫

রিয়াদে আরামকো স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের, পাল্টা ৯৭ অভিযান

১৬

দুই পাকিস্তানি নিহত, ভারতীয় কূটনীতিককে তলব পাকিস্তানের

১৭

পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর হামলা, সাংবাদিকদের আটক

১৮

আমদানি ৮৭ টাকা, বাজারে মাল্টা ৫২০—দামের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন

১৯

স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নিয়োগ, ৮০ শতাংশ নারী

২০