
UD 24 News 🗞️
ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব, সৌদি-হুথি সংলাপে নতুন সম্ভাবনা
ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ঘিরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ সামনে এসেছে। সৌদি আরবের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর তেহরান রিয়াদ ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতি এবং হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
আরাঘচি তাঁর টেলিগ্রাম বার্তায় রাজনৈতিক সমাধানের পথ বাদ দিয়ে সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সামরিক পন্থাকে অগ্রাধিকার দিলে সংকট আরও জটিল হতে পারে। আঞ্চলিক বিরোধ নিরসনে আলোচনাই কার্যকর পথ—এমন অবস্থান তুলে ধরে তিনি রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরুর পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তেহরান প্রস্তুত। এই উদ্যোগের লক্ষ্য দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি করা।
এর আগে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাঁর আগের অবস্থান থেকে ভিন্ন। বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না।
ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসে প্রভাবিত। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চুক্তি হয়। এর আগে সাত বছর ধরে তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পরও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তেহরান ও রিয়াদের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৬ সালের মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়ে সহনশীলতার সীমা রয়েছে। তিনি তেহরানকে নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন মধ্যস্থতার প্রস্তাব আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে এই প্রস্তাবে সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া কী হবে এবং আলোচনার কোনো বাস্তব অগ্রগতি হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
UD 24 News 🗞️
সত্যের সাথে দেশের পাশে
মন্তব্য করুন