
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলগত প্রভাব কি কমছে?
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে সংঘাত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেলবাহী জাহাজ চলাচলকে এখনো পুরোপুরি নিরাপদ ও স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না।
ট্যাংকার চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের প্রবাহ প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে কিছু হিসাব ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্বালানি পরিবহন বাড়তে থাকায় আলোচনার টেবিলে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চাপ কিছুটা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ দিয়ে তেল চলাচল শুরু হওয়াকে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। সংঘাতের সামগ্রিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
Wealth Club-এর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসান্নাহ স্ট্রিটার বলেন, হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন অব্যাহত থাকা ইতিবাচক সংকেত। কিন্তু বৃহত্তর সংঘাতের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই প্রবাহকে পুরোপুরি নিরাপদ বা নিশ্চিত হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
এর পাশাপাশি ট্যাংকারের বীমা ব্যয়ও এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে জ্বালানি পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ ও ঝুঁকি দুটিই রয়ে গেছে।
অর্থাৎ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কিছুটা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেখা গেলেও, দেশটির হাতে থাকা কৌশলগত চাপ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তেল পরিবহন বাড়লেও নিরাপত্তা, বীমা ব্যয় এবং চলমান সংঘাতের অনিশ্চয়তা এখনো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় বিষয় হয়ে রয়েছে।
মন্তব্য করুন