
মিয়ানমারকে ASEAN-এ ফেরাতে কাজ করবে মালয়েশিয়া
মিয়ানমারকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে (ASEAN) আবারও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার বিষয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ অবস্থানের কথা জানান।
দুই দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ছিলেন মিন অং হ্লাইং। এপ্রিলে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল মালয়েশিয়ায় তার প্রথম সফর। সফরে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি মিয়ানমারের নাগরিকদের মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়া সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেবে। দেশটিকে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পুনরায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে আসিয়ান কাঠামোর মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট ঘিরে আসিয়ানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক জটিল হয়ে পড়ে। শান্তি উদ্যোগ বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকায় মিয়ানমারের নেতাদের আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বৈঠক থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
বৈঠকে মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আনোয়ার জানান, এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৯৩ জনের বেশি মিয়ানমারের নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিমান ও নৌযানের মাধ্যমে দেশটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও আলোচনা করবে।
মিয়ানমার ইতোমধ্যে আরও কয়েক হাজার নাগরিককে গ্রহণে সম্মতি জানিয়েছে। মিন অং হ্লাইং জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি জানান, এ জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রত্যেক ব্যক্তির জাতীয়তা ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাইয়ের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিয়ানমারও নিজ খরচে বড় সংখ্যায় নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।
দুই দেশের নেতারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, কৃষি ও খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন। মালয়েশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
তবে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় কীভাবে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়। মালয়েশিয়ায় থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে রোহিঙ্গারা রয়েছেন কি না এবং তাদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে দুই নেতার বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন