
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ দিনের সফর শেষে দেশে ফেরার পথে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে এটিই ছিল তাঁর প্রথম উপস্থিতি। সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি বিষয়ে অংশ নেন তিনি।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘকেন্দ্রিক কর্মসূচির বাইরে এসব বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
সফরের আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জনশক্তি, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া প্রথম ভাষণেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য চুক্তি হয়। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়। এ চুক্তি নিয়ে পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।
তবে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর এবং সফরের শেষ দিকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা সম্প্রসারণসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সইয়ের সময় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না।
জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতির অবসানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আসে।
সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবিক সংকটের মতো আন্তর্জাতিক বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া ভাষণ ও অন্যান্য বক্তব্যে এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ে সর্বোচ্চসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই সফরের কার্যক্রম সাজানো হয়েছিল।
পাঁচ দিনের সফর শেষে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন