
লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে জাতিসংঘের পোস্টে গুলি, হতাহত নেই
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যবর্তী সীমান্তে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর একটি অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো শান্তিরক্ষী হতাহত হননি।
জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, বুধবার সকালে কাফর শুবার কাছে তাদের একটি পোস্টে কয়েক রাউন্ড ছোট অস্ত্রের গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলটি ‘ব্লু লাইন’ নামে পরিচিত জাতিসংঘ নির্ধারিত সীমান্তের কাছে।
ইউনিফিল বলেছে, শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা তাদের জীবনকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।
দক্ষিণ লেবাননে ইউনিফিলের বর্তমান সদস্যসংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৫০০। প্রায় ৫০টি দেশের শান্তিরক্ষীরা এই মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭৮ সালে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালানোর পর ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য ইউনিফিল গঠন করা হয়। পরে ২০০৬ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধের পর এর দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়। প্রতিবছর মিশনটির মেয়াদ নবায়ন করা হয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহর তৎপরতা ঠেকাতে ইউনিফিল যথেষ্ট কার্যকর নয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে ইসরায়েল। সীমান্তে সংঘাত বাড়ার পর মিশনটি বন্ধের দাবিও জোরালো হয়েছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ চলতি বছরের শুরুতে ইউনিফিলের বর্তমান ম্যান্ডেট ৩১ ডিসেম্বর শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
মিশন প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে লেবানন। গত মাসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জাতিসংঘকে সেই পরিস্থিতি এড়ানোর আহ্বান জানান এবং কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া শান্তিরক্ষা বাহিনী সরিয়ে না নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পর একটি যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী সমঝোতার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা কমেছে। একই মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তিও হয়। এতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী সরানো এবং ওই এলাকায় লেবাননের সেনা মোতায়েনের বিষয় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত কয়েকটি ‘পাইলট জোনে’ এই সেনা মোতায়েন শুরু হওয়ার কথা।
মন্তব্য করুন