
এআই নিয়ে ঝুঁকির সতর্কতা, তবু উন্নয়নের গতি কমাতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র-চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন সতর্কতা দিচ্ছেন প্রযুক্তি খাতের একাধিক নেতা ও গবেষক। তাদের কেউ কেউ আন্তর্জাতিকভাবে এআই উন্নয়নের গতি কমানো বা সীমিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তবে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এখনো সেই পথে হাঁটার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কিছু সহযোগিতার আলোচনা হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তা ব্যাপক বা বাধ্যতামূলক কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
এআই নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতিও বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের গবেষক অ্যালভিন ওয়াং গ্রেলিনের মতে, বিশ্বের অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণাগার ও বহুল ব্যবহৃত মডেল এই দুই দেশের সঙ্গে যুক্ত। তাই নিরাপত্তার কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে দুই দেশের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে কোনো বৈশ্বিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
চীন এআই নিরাপত্তা নিয়ে কিছু নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং চলতি মাসে তাদের নিরাপত্তা কাঠামোর তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে দেশটি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনা পক্ষের আলোচনায় সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের ঝুঁকি দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় উন্নত এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও তার সম্ভাব্য কৌশলগত ব্যবহারের আশঙ্কাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পক্ষ থেকে আলোচনায় আসা সম্ভাব্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন এআই-সংক্রান্ত ঘটনার তথ্য জানানোর ব্যবস্থা। তবে উন্নত এআই কোন পর্যায়ে পৌঁছালে তা গ্রহণযোগ্য সীমা ছাড়িয়ে যাবে, সে বিষয়ে কোনো যৌথ সীমারেখা এখনো সামনে আসেনি।
এদিকে এআই খাতের মধ্যেও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একমত নয় সবাই। কেউ উন্নয়নের গতি কমানো ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে, আবার কেউ প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফলের কথা তুলে ধরে উন্নয়ন বন্ধ না করে নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করার পক্ষে মত দিচ্ছেন।
ফলে ট্রাম্প-শি বৈঠকে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি উন্নয়নের গতি কমবে কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত।
মন্তব্য করুন