
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানো ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা। তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পরও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সন্দেহভাজন যে কাউকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা এপি (AP)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা জানান, তিনি গাজায় দায়িত্ব পালনকালে এমন অনেক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের বহনকারী যানবাহনে হামলা চালানো হয়েছে। একটি ঘটনায় হামলার পর তার সহযোদ্ধাদের উল্লাস করতেও দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিশের কোঠায় থাকা ওই সেনার ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে নির্দেশ ছিল—নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করলে বা তার কাছাকাছি গেলেই গুলি চালাতে হবে। তার মতে, ওই সময় গাজার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অস্থির ও বিশৃঙ্খল।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে গাজায় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকা ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মধ্যকার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ঘিরে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে, সে বিষয়ে অনেক সময় স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না বলে তারা জানিয়েছেন।
সেনাদের দাবি, কিছু কমান্ডার প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন দেখালেও ব্যক্তিগতভাবে গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করতেন। ফলে মাঠপর্যায়ের সেনাদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হতো।
এক সেনা জানান, অনেক সময় দূর থেকে বা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে গুলি চালানোর কারণে লক্ষ্যবস্তু আসলে কে ছিল, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ থাকত না। ইসরায়েলি সাবেক সেনাদের নিয়ে গঠিত একটি হুইসেলব্লোয়ার সংগঠনও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গত অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে গাজার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করা তিনজন রিজার্ভ সেনা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন। তারা জানান, যা দেখেছেন তা তাদের ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করেছে বলেই তারা মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, এপি তাদের অনুসন্ধানে গাজার ইয়েলো লাইনের কাছাকাছি এলাকায় শিশু ও সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর একাধিক ঘটনার তথ্যও নথিভুক্ত করেছে।
প্রতিবেদনটি গাজায় যুদ্ধবিরতির পর বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন