
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র্যাব-১৪ এর একটি দল তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি আমান উল্লাহ সাগর, যিনি স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম।
এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষকসহ আরও একজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে ভুক্তভোগীর মা এতে রাজি না হওয়ায় পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসা বন্ধ করে এলাকা ত্যাগ করেন।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপে ছিল এবং শুরুতে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে চাইছিল না। পরে ধীরে ধীরে কিছু তথ্য সামনে আসে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি নির্দোষ এবং প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় মেডিকেল ও অন্যান্য পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।