
জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সাত দফা দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াত আমিরের
জুলাইয়ের আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ওসমান হাদিসহ নিহত সবার হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় খুলনার শিববাড়ী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়ামুখী তৃতীয় লংমার্চের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকা বিষয়গুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এর প্রতিক্রিয়া জনগণই জানাবে।
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। কার্ডের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা দেওয়ার বিপরীতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বাবদ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি কৃষকের সারসংকট এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন জামায়াত আমির।
পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় বিরোধী দলগুলোকে রাজপথে কর্মসূচি দিতে হচ্ছে। তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের উত্থাপিত সাত দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এসব দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি আসতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে গণভোট ও সরকার গঠনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, গণভোটকে অবৈধ বলা হলে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ব্যবস্থা থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের সমালোচনা করেন।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের করের অর্থ ব্যয় করে বিরোধী দলকে আক্রমণ করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মতামতকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। ১১ দলীয় ঐক্যের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ ও আরিফুল ইসলাম আদিব, চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম রনি এবং ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ।
খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির ও ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনার আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিকসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন