
UD 24 News 🗞️
ইসরায়েলে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তের দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | UD 24 News
ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে আবারও রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে শনিবার তেল আবিবে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। দেশটির নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তেল আবিবের জিম্মিদের স্মরণে পরিচিত ‘হোস্টেজেস স্কয়ার’ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। কর্মসূচির আয়োজন করে অক্টোবর কাউন্সিল নামের একটি সংগঠন। গাজায় আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সংগঠনটি ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
সংগঠনটির দাবি, ওই দিনের নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে ব্যর্থ হয়েছিল, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিক্ষোভে যোগ দেন বিরোধী নেতারা
সরকারবিরোধী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিরোধী রাজনীতির কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট এবং ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলান।
বিক্ষোভস্থলে আইজেনকটকে ঘিরে সমর্থকেরা স্লোগান দেন। তাঁকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার প্রত্যাশাও প্রকাশ করেন উপস্থিত কয়েকজন বিক্ষোভকারী। এদিকে দেশটির বিভিন্ন স্থানেও সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
তদন্ত কমিশন গঠন নিয়ে বিরোধ
৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বিরোধীদের প্রস্তাবিত স্বাধীন কমিশন গঠনে সম্মতি দেয়নি।
সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিশনের অর্ধেক সদস্য নিয়োগ করবে সরকার এবং বাকি সদস্যদের মনোনয়নের দায়িত্ব থাকবে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের হাতে।
বিরোধী নেতারা এই পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজনীতিবিদদের নিয়োগ করা কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা কঠিন। এ কারণে তাঁরা প্রস্তাবিত কমিশন বর্জনের অবস্থান নিয়েছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
মঙ্গলবারের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে কাছাকাছি অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কোনো পক্ষই এককভাবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইরানকে ঘিরে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সামরিক নীতিতেও নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে। আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়ে তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য সীমিত বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ
কর্মসূচির আগে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করেছিল অক্টোবর কাউন্সিল। সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সরকারপন্থী কয়েকটি পক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
৭ অক্টোবরের হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা, সরকারি জবাবদিহি এবং স্বাধীন তদন্তের প্রশ্ন ইসরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে। নির্বাচনের আগে হাজারো মানুষের এই বিক্ষোভ সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
UD 24 News 🗞️
সত্যের সাথে দেশের পাশে
মন্তব্য করুন