UD 24 news
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ-জাপান বৈঠক: ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

Spread the love

UD 24 News 🗞️

 

জাপানের সঙ্গে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

 

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশে জাপানের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বিনিয়োগ, রেল যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রস্তাব উঠে এসেছে।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আলোচনার বিষয়গুলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানিয়েছেন।

 

অর্থনীতি ও শিল্পায়নে জাপানের অংশগ্রহণ চায় বাংলাদেশ

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্প এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন তারেক রহমান। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

 

এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাপান সফর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে জাপানের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটির বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তারেক রহমান।

 

এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের জন্য সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

 

প্রধানমন্ত্রী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, উন্নত বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

 

এআই ও রোবোটিকসে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব

 

প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং গবেষণাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাপানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা এবং দক্ষ প্রযুক্তিবিদদের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণা, স্যাটেলাইট প্রকৌশল এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

 

দ্রুতগতির রেল ও উড়াল সড়কের পরিকল্পনা

 

দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিক করার পরিকল্পনাও বৈঠকে তুলে ধরে বাংলাদেশ। ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং দেশজুড়ে উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

এসব বড় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা এবং অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আধুনিক পরিবহন ও অবকাঠামো নির্মাণে জাপানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় কাজে লাগতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগে অগ্রগতির আলোচনা

 

জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়টি বৈঠকে আলোচিত হয়। এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশে দ্রুত জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

 

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান জানান, ব্যবসা পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক প্রক্রিয়া এবং অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

 

দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। এর মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ যেন বাস্তব সুবিধা পান, সে জন্য সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

 

রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

 

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

 

মিয়ানমারের পরিস্থিতির অবনতি এবং এর ফলে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ জানান তারেক রহমান। সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে রাখাইন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশটির ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারেই অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।

 

বৈঠকে আন্তর্জাতিক আইন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথাও উঠে আসে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তারেক রহমান।

 

যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব

 

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে দুই দেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান।

 

দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে আলোচনার বিষয়গুলো কার্যকর উদ্যোগে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ-জাপান বৈঠক: ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

১

জাপানের সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান

২

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮, বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলা

৩

ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, কী সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প?

৪

নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে বিক্ষোভ, স্বাধীন তদন্তের দাবি

৫

নাহিদ ইসলামের দাবি, পদত্যাগ করুন স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রী

৬

জুলাইয়ের দায় স্বীকার ছাড়া আওয়ামী লীগের রাজনীতি কঠিন: পার্থ

৭

পদত্যাগের নির্দেশকে সেরা পরামর্শ বললেন ইশরাক হোসেন

৮

সম্প্রীতি রক্ষায় তরুণদের ভূমিকা চান রাষ্ট্রপতি

৯

নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেন না জেডি ভ্যান্স

১০

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১১

তারেক রহমানের হুঁশিয়ারি: স্বৈরাচারের পথ খুললে শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

১২

সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিসর

১৩

ট্রাম্পের সমর্থনে ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহু

১৪

বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াত আমিরের গুরুতর অভিযোগ

১৫

সৌদি-হুথি বিরোধে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত ইরান

১৬

উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

১৭

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের প্রত্যাশা

১৮

সৌদির নিরাপত্তায় ইরাকের আশ্বাস, হামলা নিয়ে নতুন বার্তা

১৯

গাজায় বেসামরিক ভবনে ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদন ইসরায়েলের

২০