
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নতুন করে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল বিশেষ করে বীরসেবা এলাকা।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটে প্রথম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর প্রায় ২০ মিনিট পর দ্বিতীয় দফায় আরও একটি হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (Israel Defense Forces) জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে বহু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ করেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এর আগে রোববার রাতে স্থানীয় সময় সাড়ে ১১টার দিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। এরপরই দেশজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসরায়েল সরকার তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর কুদস বা সংশ্লিষ্ট কমান্ড কাঠামোর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, লেবানন ও দক্ষিণাঞ্চলে চলমান উত্তেজনার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন ইরানের সাবেক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই, যিনি বলেন—আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত এবং সাম্প্রতিক হামলাগুলো তারই অংশ।
বর্তমানে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
মন্তব্য করুন