
UD 24 News 🗞️
মেট্রোরেলের দুই লাইনে ৫৮ হাজার কোটি টাকার বড় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় মেট্রোরেলের পরিধি বাড়াতে লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৫৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ ও উড়ালপথ, স্টেশন, ডিপো, ট্র্যাক, বিদ্যুৎ, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মেট্রোরেল প্রকল্পের আটটি প্যাকেজসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন এবং আরও তিনটি প্যাকেজের জন্য দরদাতাদের সুপারিশ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় কাজগুলোর একটি লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজ। এ অংশে বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরি হবে। এর মধ্যে দুটি টানেল এবং বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত—এই তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কাজটির জন্য নিশিমাতসু-টিপিএল-টোডা যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
লাইন-১-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ সিপি-০৯। এখানে ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, উপকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎব্যবস্থাও এ কাজের অংশ। এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে কাজটির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
সিপি-১০ প্যাকেজে মেট্রোরেলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর আওতায় স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক, এলটিইভিত্তিক বেতার যোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে। এ কাজের ব্যয় ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্টাবলিং শেড, অপারেশন ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা।
লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজেও রয়েছে বড় ধরনের নির্মাণকাজ। হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা এলাকায় পাঁচটি উড়ালস্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজের ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা।
এদিকে লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত অংশে প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য মূল চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সিপি-০৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন এলাকা থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার অংশে প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণের চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা।
লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকার কাজের প্রস্তাবও রয়েছে। এ প্যাকেজে সংশ্লিষ্ট যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোরেল লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অন্যদিকে লাইন-৫-এর পরিকল্পিত রুট রাজধানীর গাবতলী থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।
দুই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), আর এতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকার অর্থায়ন রয়েছে।
মন্তব্য করুন