
হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েকদিন পর দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর নাবাতিয়েহে ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা। সাম্প্রতিক সংঘাতে শহরটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে; বিমান হামলায় ধ্বংস হয়েছে বহু ভবন, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক স্থাপনা।

বর্তমানে পৌরসভা কর্মী ও নির্মাণ শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে রাস্তা পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত এবং জরুরি সেবা পুনরায় চালু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের মতে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও সময় লাগবে। বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করায় স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ধীরে ধীরে কার্যক্রম চালু করছে। বাজার, দোকানপাট এবং ছোট ব্যবসাগুলো আবার সচল হওয়ার চেষ্টা করছে, যা শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণ সঞ্চার করছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাড়ি ফেরা বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।
দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নাবাতিয়েহ দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের পর এখন পুনর্গঠনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে এখনও যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান থাকলেও বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে নতুন আশার সঞ্চার।
পুনর্গঠনের কাজ চলমান থাকায় স্থানীয়রা আশা করছেন, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। তাদের বিশ্বাস, সব বাধা অতিক্রম করে নাবাতিয়েহ একদিন আগের চেয়েও শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
মন্তব্য করুন