
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ সফরে গেলেই প্রায়ই কোনো না কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা নিয়ে দেশে ফেরেন। সম্প্রতি ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস সফরেও তিনি দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান হিসেবে পরিচিত “Guardian of the Blue Horizon” পুরস্কারে ভূষিত হন। তবে এই সম্মাননাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পুরস্কারটি মোদির সফরের আগ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও প্রচলিত ছিল না। এমনকি সম্মাননাপত্রে সেশেলসের নামের বানানসহ একাধিক ভুলও নজরে আসে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সেশেলস সরকার জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং ভারত-সেশেলস সম্পর্ক জোরদারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই মোদিকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। রাজধানী ভিক্টোরিয়ার স্টেট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনি তাঁর হাতে ট্রফি ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন।
অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি—এই ধরনের সম্মাননা অনেক ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ, যা কোনো নির্দিষ্ট নেতার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করে তুলতে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক নিতাশা কৌল মন্তব্য করেন, এসব পুরস্কার ভারতের কূটনৈতিক অর্জনের চেয়ে মোদির ব্যক্তিগত ইমেজকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশ সফরে গিয়ে মোদি অসংখ্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি পুরস্কার তাঁর সফর উপলক্ষে বিশেষভাবে চালু করা হয়েছে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে ভারত সরকার এসব সম্মাননাকে ভারতের বৈশ্বিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে।
কূটনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটেও এসব সম্মাননার গুরুত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে এসব পুরস্কারকে ঘিরে রাজনৈতিক ও একাডেমিক মহলে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে সেশেলসের এই নতুন সম্মাননাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে—এটি কি সত্যিই ভারতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক, নাকি একজন নেতার বৈশ্বিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করার অংশ—সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মতভেদ থে কেই যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন