
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই কৌশলগত নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দেবে। তবে এ দায়িত্ব আর বিনা মূল্যে পালন করা হবে না; নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ বহন করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সুবিধাভোগী দেশগুলোকেই।
সোমবার (১৩ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করলেও সেই ব্যয়ের ন্যায্য অংশ বহন করে না। তাই হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি রুট নিরাপদ রাখতে ভবিষ্যতে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি করিডোরগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা বা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানেরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, অতীতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন সমঝোতা ইরান বারবার লঙ্ঘন করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে, কারণ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন