UD 24 news
১০ অগাস্ট ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের, এরপর কী?

Spread the love

ট্রাম্পের ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের, এরপর কী?

 

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনাটি নিয়ে হামাসের সঙ্গে অগ্রগতির দাবি করা হলেও এবার সরাসরি আপত্তি জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

 

রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরায়েল ১৫ দফা নথি প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর দাবি, হামাসকে পুরোপুরি এবং বাস্তবভাবে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে কোনো ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

 

কী ছিল ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনায়?

 

ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি করা এই ১৫ দফা রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য হলো গাজায় যুদ্ধবিরতিকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া, একটি নতুন ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, হামাসের অস্ত্রসমর্পণ এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি নতুন ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির হাতে দেওয়ার কথা। একই সঙ্গে হামাসসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র ধীরে ধীরে প্রত্যাহার ও আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করার প্রস্তাব রয়েছে।

 

পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গাজায় কাজ করবে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি সেনারা ধাপে ধাপে সরে যাবে। বড় পরিসরে পুনর্গঠনও নিরস্ত্রীকরণ ও স্থিতিশীলতার যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

 

কেন আপত্তি নেতানিয়াহুর?

 

ইসরায়েলের প্রধান আপত্তি হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে।

 

নেতানিয়াহুর বক্তব্য, শুধু কিছু অস্ত্র জমা দেওয়া বা প্রতীকীভাবে নিরস্ত্রীকরণ করলেই হবে না। তাঁর দাবি, হামাসের ভারী ও হালকা—সব ধরনের অস্ত্রের প্রকৃত এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।

 

তিনি বলেন, ইসরায়েল এমন কোনো ব্যবস্থা মেনে নেবে না যেখানে হামাস আংশিকভাবে অস্ত্র রেখে দেয় এবং সেটিকে নিরস্ত্রীকরণ হিসেবে দেখানো হয়। তাঁর ভাষায়, প্রয়োজন ‘বাস্তব নিরস্ত্রীকরণ’, কোনো কাল্পনিক বা প্রতীকী ব্যবস্থা নয়।

 

নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছেন, পরিকল্পনার কিছু বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে সব প্রস্তাব ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

 

হামাসের অবস্থান কী?

 

অন্যদিকে হামাস ১৫ দফা রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনার প্রতি নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। তবে তাদের অবস্থান হলো—ইসরায়েলকে প্রথমে গাজায় হামলা বন্ধ করতে হবে এবং নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

 

অর্থাৎ, দুই পক্ষের মধ্যে মূল বিরোধ এখন কোনটি আগে হবে—হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, নাকি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।

 

ইসরায়েল বলছে, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার হবে না। আর হামাস চাইছে যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের অগ্রগতি নিশ্চিত হওয়ার পর নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে।

 

এরপর কী হতে পারে?

 

নেতানিয়াহুর এই অবস্থানের ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা।

 

ওয়াশিংটনকে একদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবিগুলো বিবেচনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে হামাসকে পরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হচ্ছে।

 

সম্ভাব্যভাবে তিনটি বিষয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে—

 

প্রথমত, হামাস কীভাবে এবং কোন সময়সূচিতে অস্ত্র জমা দেবে।

 

দ্বিতীয়ত, নিরস্ত্রীকরণ যাচাই করবে কারা এবং সেই যাচাই শেষ হওয়ার আগে ইসরায়েল কতটা সেনা প্রত্যাহার করবে।

 

তৃতীয়ত, গাজার বেসামরিক প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী কীভাবে দায়িত্ব নেবে।

 

১৫ দফা পরিকল্পনায় এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে অগ্রগতির কাঠামো থাকলেও ইসরায়েলের দাবি আরও কঠোর হওয়ায় বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষির প্রয়োজন হতে পারে।

 

রাজনৈতিক চাপও বড় фактор

 

নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর ডানপন্থী জোটের অনেক সদস্য হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় না করে কোনো ধরনের সেনা প্রত্যাহার বা গাজা পুনর্গঠনের উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন।

 

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা থাকা সত্ত্বেও গাজা ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু।

 

শান্তি প্রক্রিয়া কি আবার থেমে যাবে?

 

এই মুহূর্তে ১৫ দফা পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেছে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এখনও চলছে এবং পরিকল্পনার কিছু অংশ নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তবে নেতানিয়াহুর ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারে রাজি নয় ইসরায়েল।

 

আর হামাস যদি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা ছাড়া অস্ত্র জমা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে দুই পক্ষের অবস্থানের এই বিরোধই গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

ফলে এখন সবার নজর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ, ইসরায়েল-হামাসের মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে নতুন কোনো সমঝোতা হয় কি না—সেদিকে।

 

গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকবে, নাকি আবারও সংঘাত বাড়বে—তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই ‘নিরস্ত্রীকরণ বনাম সেনা প্রত্যাহার’ সংকট কীভাবে সমাধান করা যায় তার ওপর।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাম্পের ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের, এরপর কী?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ

বাড়িওয়ালাকে হত্যার পর মরদেহ ১১ প্যাকেটে, ভাড়াটিয়া আটক

পশ্চিম তীরে ৭০টির বেশি ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে ৩৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননে বিস্ফোরণ, ২ ইসরায়েলি সেনা নিহত; বাড়ছে উত্তেজনা

শিশু নিরাপত্তায় ব্যর্থ, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

কারিনার মৃত্যুতে নতুন প্রশ্ন | ভেজাল খাদ্য, লিভার রোগ ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংকট

মৃত্যুদণ্ডের রায় উপেক্ষা করে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

বছর পর মুখ খুলছেন শেখ হাসিনা, আজকের বক্তব্যে কী বার্তা আসতে পারে?

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে আবদুল এল-সাইয়েদের ঐতিহাসিক জয়

১০

আধুনিক ও ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া আদর্শ জাতি গঠন সম্ভব নয়: সেনাপ্রধান

১১

শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর বিহার-মধ্যপ্রদেশে ধাক্কা খেল বিজেপি, উপনির্বাচনে চমক

১২

পুলিশের জন্য নতুন নির্দেশনা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | সর্বশেষ বাংলাদেশ

১৩

দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, বাড়বে আমদানি-রপ্তানির গতি

১৪

কেরানীগঞ্জে ঝিলমিলের জঙ্গলে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

১৫

ভারতে রাজনীতি করতে পারবেন না শেখ হাসিনা: মোদি সরকার

১৬

নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নিহত ৩, শান্তির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৭

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৩৪, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

১৮

ডেভিড ইমন গ্রেফতার: পরিচয় গোপনে ‘মিরাজ’ নাম, ধরতে অভিযান চালায় ৯টি টিম

১৯

গাজায় নতুন হামলায় নিহত, আহত বহু; ধ্বংস হলো মসজিদ

২০