UD 24 news
১৩ অগাস্ট ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বাগদাদে ইরানের শীর্ষ কমান্ডার, অস্ত্র সমর্পণ নিয়ে গোপন বৈঠক

Spread the love

✍️ সংবাদ প্রতিবেদন

বাগদাদ: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কায়ানি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আকস্মিক সফর করেছেন বলে জানা গেছে। ইরাকি রাজনৈতিক মহলের একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাগদাদে গিয়ে কায়ানি ইরাকের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কয়েকজন কমান্ডারের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন।

বৈঠকে মূলত ইরাক সরকারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা এবং দেশের সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

ইরাকি সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের নিরাপত্তা ও অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাগদাদ। তবে ইরান-সমর্থিত কয়েকটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে।

ইরাকি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কায়ানির মাধ্যমে তেহরান সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে এই মুহূর্তে অস্ত্র হস্তান্তর না করার বার্তা দিয়েছে। ইরানের আশঙ্কা, নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল না করে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তেহরান।

সূত্রটি আরও দাবি করেছে, ইরান চায় না অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নে ইরাক সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাত তৈরি হোক। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্য বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইরাকের রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশও অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করছে বলে জানা গেছে।

ইরাকে দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রের বাইরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্তিত্ব দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব নিয়ে বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে ইরাক সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে থাকা অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে শক্তিশালী কয়েকটি গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় কুদস ফোর্স প্রধান ইসমাইল কায়ানির বাগদাদ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সফরের মাধ্যমে ইরান ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে সরাসরি অবস্থান জানিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কায়ানির সফর ও বৈঠক নিয়ে ইরান বা ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে অস্ত্র সমর্পণ ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাজিলকে রুখে দিল অস্ট্রেলিয়া, শেষ মুহূর্তে ড্র

১

হুমকি-ধমকি দিয়ে বিএনপিকে দমানো যাবে না: টুকু

২

যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৩০ কর্মসূচি, ১১ দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক

৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আস্থা নেই: পেজেশকিয়ান

৪

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

৫

পুলিশে ফ্যাসিবাদী যোগাযোগ থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৬

গাজায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের

৭

পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ৪, জবাবের হুঁশিয়ারি

৮

নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার সুসান সারান্ডনসহ অনেকে

৯

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব দিলেন পেজেশকিয়ান

১০

মনোহরদীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক মন্তব্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ

১১

ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্য, এআই ও তাইওয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু

১২

উত্তর ইরাকের বাশিকা ঘাঁটি ধাপে ধাপে ইরাককে দেবে তুরস্ক

১৩

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী সড়ক বন্ধ

১৪

যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই উন্নয়নে গতি কমাবে না, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

১৫

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার টেবিলে দুই দেশ

১৬

এরদোয়ানের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, বাড়ছে বাংলাদেশ-তুরস্ক সহযোগিতা

১৭

ইয়েমেনে কাবার আদলে স্থাপনা, হুথিদের ঘিরে বিতর্ক

১৮

জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এরদোয়ানের তীব্র অভিযোগ

১৯

জ্বালানির দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

২০