
ফিফার নতুন অর্থায়ন প্রস্তাব, বাড়তি অর্থ পেতে পারে বাংলাদেশ
বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে সদস্য দেশগুলোর জন্য আরও বড় পরিসরে অর্থ ছাড়ের একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের অর্থচক্রে ফিফার প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ন্যূনতম ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্যও অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে ফিফার আর্থিক রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অবকাঠামো ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার চেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মনতালিয়ানি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেককে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মোট বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ফিফার সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশও এই সম্ভাব্য অর্থায়নের আওতায় থাকবে। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন শেষ পর্যন্ত ঠিক কত অর্থ পাবে, সেটি এখনই নিশ্চিত নয়। প্রস্তাবটি অনুমোদনের পাশাপাশি অর্থ ব্যবহারের নিয়ম, খাত ও অন্যান্য শর্তও চূড়ান্ত হতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ছয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেছেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছতা ও নিরীক্ষাযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সদস্য দেশগুলোকে দায়িত্বশীলভাবে অতিরিক্ত অর্থায়নের সুযোগ তিনি সমর্থন করবেন। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট অর্থের অঙ্ক ঘোষণা করেননি।
প্রস্তাবটি এখন ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসার কথা। এর আগে বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে আর্থিক মূল্যায়ন প্রস্তুতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও অতিরিক্ত অর্থায়নের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এশিয়ার সদস্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমেও নতুন অর্থের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য এই অর্থ বাংলাদেশে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে এবং বাফুফে কোন প্রক্রিয়ায় তা পাবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফিফা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পরই বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য করুন