
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার টেবিলে দুই দেশ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একদিকে যখন কঠোর হুঁশিয়ারি ও পাল্টা বক্তব্য চলছে, অন্যদিকে তখনই যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগও শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। তিনি বলেন, সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার সামনে রয়েছে। একই বক্তব্যে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের সামরিক নেতৃত্বও পাল্টা সতর্কবার্তা দেয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানায়, নতুন করে হামলা হলে আগের তুলনায় আরও কঠোর ও ‘চূর্ণকারী’ জবাব দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।
তবে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের মধ্যেই নিউইয়র্কে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার আলোচনা হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও আলোচনায় ছিলেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চালানো হয়।
ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকটি ভালো ও ফলপ্রসূ হয়েছে। মার্কিন দূত উইটকফও আলোচনাকে গঠনমূলক ও সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন। এই যোগাযোগকে দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস পর নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলোচনায় যুদ্ধের অবসান, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। তেহরান চায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সমুদ্রপথে আরোপিত চাপ কমানো হোক। অন্যদিকে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা চায়।
ফলে একই সময়ে সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ—দুই বিপরীতমুখী বার্তাই দিচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। আলোচনার এই নতুন উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসানের দিকে যায় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন