
পশ্চিম তীরে গাজা অভিযানের পুনরাবৃত্তির আহ্বান স্মোটরিচের
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। গাজায় ইসরায়েল যে ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে, পশ্চিম তীরেও একই পদ্ধতি অনুসরণের পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার কথাও বলেছেন ইসরায়েলের এই কট্টর ডানপন্থী নেতা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেটের একটি সাক্ষাৎকারে পশ্চিম তীরের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্মোটরিচ বলেন, সেখানে ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধে যেতে’ হবে। তিনি পশ্চিম তীরকে ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ নামে উল্লেখ করে বলেন, গাজায় যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, পশ্চিম তীরেও তেমন পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্মোটরিচের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে পশ্চিম তীরে কোনো সশস্ত্র অবকাঠামো, অস্ত্র কিংবা টানেল না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান জানান।
তার বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৩০টির বেশি হামলার তথ্য নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA)।
স্মোটরিচ শুধু পশ্চিম তীর নিয়েই বক্তব্য দেননি। গাজার ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত এলাকা এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের লিতানি নদী পর্যন্ত ভূখণ্ড ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার যুক্তি, যুদ্ধ শুরুর আগের সীমারেখায় যুদ্ধ শেষ হলে ভবিষ্যতে আবার সংঘাতের ঝুঁকি থেকে যায়।
স্মোটরিচের মন্তব্যকে শুধু নির্বাচনী প্রচারণার বক্তব্য হিসেবে দেখার বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। আদালাহর আইনবিষয়ক পরিচালক সুহাদ বিশারা মনে করেন, পশ্চিম তীরে ইতোমধ্যে যে সামরিক অভিযান ও বাস্তুচ্যুতি চলছে, তার সঙ্গে স্মোটরিচের বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশ্লেষক মাইরাভ জন্সজেইনও বলেছেন, স্মোটরিচের বক্তব্যকে কেবল নির্বাচনী বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। তার মতে, পশ্চিম তীরে গত কয়েক বছর ধরে যে নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, এই বক্তব্য তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
আগামী মাসে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে পশ্চিম তীর, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে স্মোটরিচের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন