
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবারও শিরোপার স্বপ্নে বিভোর ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা এবার লক্ষ্য রেখেছে ইতিহাস গড়ে ষষ্ঠ শিরোপা—হেক্সা মিশন পূরণ করা। কিন্তু এই স্বপ্নের পথে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের নেতৃত্ব ও আক্রমণভাগের ভার কার কাঁধে থাকবে।
চোট এবং বয়সজনিত সমস্যার কারণে দলের নির্ভরযোগ্য তারকা ধীরে ধীরে ছিটকে পড়ছেন মূল পরিকল্পনা থেকে। ফলে ব্রাজিল এখন নতুন এক যুগের দ্বারপ্রান্তে, যেখানে নেতৃত্বের দায়িত্ব এসে পড়েছে -এর কাঁধে।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্লাব ফুটবলে তিনি ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন বিশ্বসেরাদের একজন হিসেবে। লা লিগা থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়নস লিগ—প্রতিটি বড় মঞ্চেই ভিনিসিয়াসের গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক খেলা প্রতিপক্ষের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে।
কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। এখন পর্যন্ত ৪৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাত্র ৯টি গোল—যার বেশিরভাগই এসেছে অপেক্ষাকৃত সহজ ম্যাচে। বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারার সমালোচনা বারবারই তাকে ঘিরে ধরেছে।
২০২৪ কোপা আমেরিকায় নিষেধাজ্ঞার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে, যা ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। এখন বিশ্বকাপ সামনে, আর পুরো দেশ তাকিয়ে আছে তার দিকে।
দলের আরেক তরুণ ভরসা এবং নতুন প্রতিভা থাকলেও মূল দায়িত্ব এখন ভিনিসিয়াসের উপরই।
প্রতিপক্ষ দলগুলো ইতিমধ্যেই তাকে থামানোর বিশেষ পরিকল্পনা করছে—কঠিন ট্যাকল, ডাবল মার্কিং এবং আক্রমণভাগে চাপ সৃষ্টি করে তাকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ভিনিসিয়াস কি পারবেন এই চাপ সামলে নিজেকে নতুন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে? নাকি আবারও বড় মঞ্চে থেমে যাবে তার স্বপ্ন?
ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষায়—ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের নীলনকশা কি সত্যিই আঁকতে পারবেন ভিনিসিয়াস?
মন্তব্য করুন