
নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার চাঁনগাঁও গ্রামে তিন মাস বয়সী এক শিশুর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক থাকলেও তদন্তের স্বার্থে তার পরিবারের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে লতা বেগম রাগের মাথায় শিশুটির পা জোরে মোচড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিশুটির মা গোপনে মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটি ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিওটি তার এক স্বজনের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ভিডিওতে প্রচারিত কিছু তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে।
শিশুটির বাবা-মা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাদের সন্তানের পা ভাঙেনি এবং বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, ঘটনাটি পারিবারিকভাবে আগেই মীমাংসা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটির সঙ্গে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যুক্ত করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্ত লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ভাইরাল ভিডিওটি কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য যুক্ত করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন