
ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ নতুন শুল্ক বসাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কার্যকর ২২ জুলাই
বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্রাজিল থেকে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২২ জুলাই থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের একটি তদন্তে ব্রাজিলের কিছু বাণিজ্যিক নীতি ও কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে অন্যায্য বলে মনে হয়েছে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলে আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও ব্রাসিলিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা চলছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, অবৈধ বন উজাড় এবং কিছু বাণিজ্যিক নীতির ক্ষেত্রে ব্রাজিল এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এছাড়া ব্রাজিলের বহুল ব্যবহৃত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘পিক্স’ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এই ব্যবস্থা মার্কিন ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, গত এক বছরে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান হয়নি। তবে ভবিষ্যতেও আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
নতুন শুল্ক কার্যকর হলে ব্রাজিলের চিনি, কৃষিযন্ত্র, পোশাক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কাগজ ও ইস্পাতসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় পড়বে।
তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যকে এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গরুর মাংস, কফি, খনিজ, জ্বালানি পণ্য, বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশ, জৈব মধু এবং পিগ আয়রন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন