
নেপালে বন্যার ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২ শ্রমিক
UD 24 News | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে ভয়াবহ বন্যার নয় দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ভেতরে আটকে থাকা অন্য শ্রমিকদেরও জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিক হলেন যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং সুপারভাইজার কবির মহার্জন।
উদ্ধারের পর দুজনকেই হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তাদের হাত ও পায়ে আঘাত রয়েছে। দীর্ঘ সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে চলাচলের সময় হামাগুড়ি দেওয়ার কারণে এসব আঘাত হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি তারা অক্সিজেনের স্বল্পতায় ভুগছেন।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও বহু শ্রমিক আটকা থাকতে পারেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সেখানে এখনো প্রায় ৩৯ জন শ্রমিক অবস্থান করছেন।
উদ্ধার অভিযানে যুক্ত আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে জানান, প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। এরপর কবির মহার্জনকে বের করে আনা হয়। তাদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে মানুষের আওয়াজ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা। পরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও স্থাপন করা সম্ভব হয়। নেপাল সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এরপর উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করেন।
উদ্ধারকারীরা ভেতরে থাকা শ্রমিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করলে সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে তারা সাড়া দেন। এতে একাধিক ব্যক্তি সেখানে জীবিত অবস্থায় আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এদিকে, বন্যার পর নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যায় ত্রিশূলী নদীর উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাও।
দুর্গম পরিস্থিতির মধ্যেই নিখোঁজ ও আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল। দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা অন্যদেরও দ্রুত বের করে আনার আশা করছেন উদ্ধারকারীরা।
মন্তব্য করুন