
গাজায় নতুন হামলায় নিহত, আহত বহু; ধ্বংস হলো মসজিদ
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন বিমান হামলায় অন্তত একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশে আশ্রয় নেওয়া শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গাজা সিটির ইয়ং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (YMCA) ভবনের কাছাকাছি অবস্থিত আল-মুত্তাকিন মসজিদ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদটি ধসে পড়ে এবং আশপাশের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি ব্যস্ত বাজার এলাকায় পৃথক হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক
হামলার আগে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য খুব অল্প সময় পাওয়ায় অনেক পরিবার ঝুঁকির মধ্যেই পড়ে। দিনের পর দিন চলমান হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয় আরও বেড়ে গেছে।
বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বলছে, তারা জানেন না পরবর্তী হামলা কখন বা কোথায় হবে। ফলে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া তাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা কমেনি
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সদস্যদের গাজায় প্রবেশের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। তবে সেই প্রক্রিয়া চললেও মাঠপর্যায়ে হামলা ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
পশ্চিম তীরেও সহিংসতার অভিযোগ
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের কাছে আবু নাজিম এলাকায় এক ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। আগুন লাগার আগে বাড়ির দেয়ালে বিভিন্ন লেখা স্প্রে করা হয় এবং একটি গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর ওই পরিবারের অন্তত আট সদস্য নিরাপত্তার জন্য এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
জেনিনে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে নতুন বিতর্ক
এদিকে পশ্চিম তীরের জেনিন অঞ্চলে প্রায় ২০০ ডুনাম জমি সামরিক আদেশের মাধ্যমে অধিগ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন সামরিক সড়ক নির্মাণ এবং বসতি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এসব জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জেনিনের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের জমি অধিগ্রহণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পরিস্থিতি এখনও অস্থির
গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতার কারণে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে শান্তি ও সংযমের আহ্বান জানানো হলেও সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।
মন্তব্য করুন